কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব: ৬টি ধাপ ও TET প্রশ্নোত্তর

কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব: ৩টি স্তর ও ৬টি ধাপ, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ ও TET MCQ

WB Primary TET CTET CDP শিক্ষামনোবিজ্ঞান

কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব (Kohlberg's Theory of Moral Development) শিক্ষামনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। এই তত্ত্বে মানুষের নৈতিক বিচারবোধ ও নৈতিক যুক্তির বিকাশকে তিনটি স্তর এবং ছয়টি ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। WB Primary TET, CTET এবং অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

১. নৈতিক বিকাশ বলতে কী বোঝায়?

মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং সঠিক-ভুলের বিচার করতে শেখে, সেই প্রক্রিয়াকে নৈতিক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়। মনোবিজ্ঞানী লরেন্স কোহলবার্গ (Lawrence Kohlberg) মানুষের নৈতিক যুক্তির বিকাশ ব্যাখ্যা করার জন্য একটি প্রভাবশালী তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।

কোহলবার্গ সুইস মনোবিজ্ঞানী জ্যাঁ পিয়াজের (Jean Piaget)-এর জ্ঞানীয় ও নৈতিক বিকাশ-সংক্রান্ত কাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ে কাজ শুরু হয়।

মূল ধারণা: একজন ব্যক্তি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার পাশাপাশি কেন সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে সেটিকে সঠিক মনে করছেন, সেটিও নৈতিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

২. কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্বের তিনটি স্তর

  1. প্রাক-প্রথাগত স্তর (Pre-conventional Level): শাস্তি এড়ানো ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে নৈতিক বিচার।
  2. প্রথাগত স্তর (Conventional Level): সামাজিক স্বীকৃতি, নিয়ম, আইন ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে নৈতিক বিচার।
  3. উত্তর-প্রথাগত স্তর (Post-conventional Level): সামাজিক চুক্তি, ব্যক্তিগত অধিকার ও সর্বজনীন নৈতিক নীতির ভিত্তিতে বিচার।

প্রতিটি স্তরে দুটি করে ধাপ রয়েছে। সুতরাং, মূল তত্ত্বে মোট তিনটি স্তর ও ছয়টি ধাপ রয়েছে।

৩. প্রথম স্তর: প্রাক-প্রথাগত নৈতিকতা

এই স্তরে ব্যক্তি সাধারণত নিজের কাজের প্রত্যক্ষ ফলাফলের ভিত্তিতে সঠিক ও ভুল বিচার করেন। শাস্তি, পুরস্কার, ব্যক্তিগত লাভ এবং নিজের প্রয়োজন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের যুক্তি শিশুদের মধ্যে বিশেষভাবে দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।

ধাপ ১: শাস্তি ও আনুগত্যের অভিমুখ

ইংরেজি নাম: Obedience and Punishment Orientation

  • শাস্তি এড়ানোর জন্য নিয়ম মেনে চলা।
  • কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • নিজের কাজের প্রত্যক্ষ পরিণতির দিকে মনোযোগ দেওয়া।
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী বলে, “আমি পরীক্ষায় নকল করব না, কারণ ধরা পড়লে শিক্ষক আমাকে শাস্তি দেবেন।” এখানে শাস্তির ভয় তার সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

ধাপ ২: ব্যক্তিগত স্বার্থ ও উপযোগবাদী অভিমুখ

ইংরেজি নাম: Self-interest Orientation / Instrumental Purpose Orientation

  • নিজের লাভ ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • লাভ-ক্ষতির হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
  • পারস্পরিক লেনদেনের ধারণা থাকা।
উদাহরণ: “আমি বন্ধুকে অঙ্ক বুঝিয়ে দেব, কারণ সেও আমাকে ইংরেজি পড়তে সাহায্য করবে।” এখানে পারস্পরিক সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

৪. দ্বিতীয় স্তর: প্রথাগত নৈতিকতা

এই স্তরে ব্যক্তি সামাজিক স্বীকৃতি, পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক নিয়ম এবং আইনকে গুরুত্ব দেন। সমাজে গ্রহণযোগ্য আচরণ করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এই স্তরের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

ধাপ ৩: আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক ও সামাজিক স্বীকৃতি

ইংরেজি নাম: Interpersonal Accord and Conformity / Good Boy–Good Girl Orientation

  • অন্যের প্রশংসা ও অনুমোদন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
  • ভালো ছেলে বা ভালো মেয়ে হিসেবে পরিচিত হওয়া।
  • পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • সম্পর্ক, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা।
উদাহরণ: “আমি বন্ধুকে সাহায্য করব, কারণ একজন ভালো বন্ধু হিসেবে আমার তাকে সাহায্য করা উচিত।”

ধাপ ৪: আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা

ইংরেজি নাম: Authority and Social-Order Maintaining Orientation / Law and Order Orientation

  • আইন ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা।
  • কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা।
  • সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝা।
  • সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম রক্ষার জন্য নিয়মের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা।
উদাহরণ: “সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রত্যেকের আইন মেনে চলা উচিত।”

৫. তৃতীয় স্তর: উত্তর-প্রথাগত নৈতিকতা

এই স্তরে ব্যক্তি প্রচলিত নিয়মের পাশাপাশি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সর্বজনীন নৈতিক নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। আইন ও সামাজিক নিয়মের ন্যায্যতা পর্যালোচনা করার গুরুত্বও উপলব্ধি করা হয়।

ধাপ ৫: সামাজিক চুক্তি ও ব্যক্তিগত অধিকার

ইংরেজি নাম: Social Contract and Individual Rights Orientation

  • মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • আইন ও সামাজিক নিয়ম পরিবর্তনযোগ্য বলে বিবেচনা করা।
  • সামাজিক কল্যাণ ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • অন্যায় বা জনকল্যাণবিরোধী নিয়ম পরিবর্তনের প্রয়োজন বিবেচনা করা।
উদাহরণ: “আইন সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সেই আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।”

ধাপ ৬: সর্বজনীন নৈতিক নীতি

ইংরেজি নাম: Universal Ethical Principles Orientation

  • বিবেক ও সর্বজনীন নৈতিক নীতির ভিত্তিতে বিচার করা।
  • ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • ব্যক্তিগত লাভ ও সামাজিক অনুমোদনের ঊর্ধ্বে নৈতিক বিবেচনাকে স্থান দেওয়া।
  • অন্যায় আইন বা আচরণের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা থাকা।
উদাহরণ: “কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা উচিত নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

এটি কোহলবার্গের মূল ছয়-ধাপের মডেলের সর্বোচ্চ ধাপ। তবে এই ধাপে ধারাবাহিকভাবে যুক্তি প্রদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়েছে।

৬. কোহলবার্গের ছয়টি ধাপ: সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক তালিকা

স্তর ধাপ নৈতিক যুক্তির ভিত্তি মনে রাখার সূত্র
প্রাক-প্রথাগত ১ শাস্তি ও আনুগত্য শাস্তির ভয়
প্রাক-প্রথাগত ২ ব্যক্তিগত স্বার্থ আমার লাভ কী?
প্রথাগত ৩ সামাজিক স্বীকৃতি ভালো ছেলে/মেয়ে
প্রথাগত ৪ আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা আইন মেনে চলা
উত্তর-প্রথাগত ৫ সামাজিক চুক্তি ও অধিকার অধিকার ও কল্যাণ
উত্তর-প্রথাগত ৬ সর্বজনীন নৈতিক নীতি বিবেক ও ন্যায়বিচার

৭. হাইনৎসের নৈতিক দ্বিধা (Heinz Dilemma)

হাইনৎসের নৈতিক দ্বিধা কোহলবার্গের তত্ত্বের একটি বিখ্যাত উদাহরণ। এতে একজন ব্যক্তির সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যেখানে স্ত্রীর জীবন রক্ষার জন্য একটি ওষুধ প্রয়োজন হলেও তিনি বৈধ উপায়ে ওষুধটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। ওষুধ বিক্রেতা দাম কমাতে রাজি নন। প্রশ্ন ওঠে, স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে স্বামীর কি ওষুধটি চুরি করা উচিত?

এই সমস্যার মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন বিবেচনা করা যায়:

  • জীবন রক্ষা এবং সম্পত্তির অধিকার—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  • আইন ভাঙা কি সব পরিস্থিতিতে অন্যায়?
  • কাজের উদ্দেশ্য কি নৈতিক বিচারে গুরুত্বপূর্ণ?
  • কোন যুক্তির ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে বিবেচনা করা যায়?
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: হাইনৎসের দ্বিধায় শুধু ব্যক্তি ওষুধ চুরি করার পক্ষে বা বিপক্ষে কি না, তা নয়; বরং তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি বিশ্লেষণ করাই কোহলবার্গের তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্য।

৮. কোহলবার্গের তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য

  • নৈতিক বিকাশকে তিনটি স্তর ও ছয়টি ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
  • সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি ও বিচারপ্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • নৈতিক দ্বিধার সাহায্যে নৈতিক যুক্তি বিশ্লেষণ করা হয়।
  • জ্যাঁ পিয়াজের জ্ঞানীয় বিকাশের ধারণা দ্বারা তত্ত্বটি প্রভাবিত।
  • ন্যায়বিচার, অধিকার ও নৈতিক নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • নৈতিক যুক্তির বিকাশকে একটি ক্রমবিকাশমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৯. কোহলবার্গের তত্ত্বের সমালোচনা

ক. ন্যায়বিচারের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব

তত্ত্বটিতে ন্যায়বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যত্ন, মমতা, সম্পর্ক ও অন্যের কল্যাণের মতো নৈতিক মূল্যবোধও গুরুত্বপূর্ণ।

খ. ক্যারল গিলিগানের সমালোচনা

ক্যারল গিলিগান তাঁর In a Different Voice গ্রন্থে কোহলবার্গের তত্ত্বের পুরুষকেন্দ্রিকতার সমালোচনা করেন। তিনি নৈতিকতার ক্ষেত্রে যত্ন, সম্পর্ক ও মমতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি Ethics of Care নামে পরিচিত।

গ. সাংস্কৃতিক সার্বজনীনতা

বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক প্রত্যাশা ভিন্ন হতে পারে। ফলে তত্ত্বের সব ধাপ সব সংস্কৃতিতে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ঘ. নৈতিক যুক্তি ও বাস্তব আচরণের পার্থক্য

একজন ব্যক্তি নৈতিকভাবে সঠিক যুক্তি দিতে পারলেও বাস্তব জীবনে সব সময় সেই অনুযায়ী আচরণ নাও করতে পারেন। তাই নৈতিক যুক্তি এবং নৈতিক আচরণকে অভিন্ন বলে ধরে নেওয়া যায় না।

ঙ. যুক্তি ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি

কিছু মনোবিজ্ঞানীর মতে, মানুষ অনেক সময় প্রথমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে তার পক্ষে যুক্তি তৈরি করেন। এটি নৈতিক সিদ্ধান্তে যুক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

চ. ষষ্ঠ ধাপের প্রমাণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা

কোহলবার্গ ষষ্ঠ ধাপকে সর্বোচ্চ ধাপ হিসেবে প্রস্তাব করলেও ধারাবাহিকভাবে এই ধাপের নৈতিক যুক্তি ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়েছে।

১০. কোহলবার্গের ৪.৫ বা ৪+ অন্তর্বর্তী ধাপ

কোহলবার্গ চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের মধ্যে উত্তরণের সময় কিছু অন্তর্বর্তী যুক্তির ধরন লক্ষ্য করেছিলেন। এগুলিকে ৪.৫ বা ৪+ হিসেবে আলোচনা করা হয়। এই অবস্থায় ব্যক্তি প্রচলিত আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তুষ্ট হতে পারেন, কিন্তু তাঁর যুক্তি এখনও সুসংহত সামাজিক চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এটি মূল ছয়টি ধাপের অতিরিক্ত একটি অন্তর্বর্তী ধারণা; একে মূল তত্ত্বের স্বতন্ত্র সপ্তম ধাপ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

১১. সপ্তম ধাপের ধারণা

কোহলবার্গ ও তাঁর সহযোগীরা Transcendental Morality বা Morality of Cosmic Orientation নামে একটি সম্ভাব্য সপ্তম ধাপের ধারণা উত্থাপন করেছিলেন। এতে নৈতিক যুক্তির সঙ্গে ধর্মীয় চিন্তা বা বৃহত্তর মহাজাগতিক দৃষ্টিভঙ্গির সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়।

তবে এটি একটি অনুমানমূলক ধারণা। এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। TET পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মূল ছয়টি ধাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

১২. উইলিয়াম ড্যামনের নৈতিক বিকাশ-সংক্রান্ত অবদান

উইলিয়াম ড্যামন (William Damon) শিশুদের ন্যায়বিচার ও খেলনা ভাগাভাগির আচরণ নিয়ে গবেষণা করেন। তিন থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে তাঁর গবেষণায় ন্যায়বিচার-সংক্রান্ত ছয়টি স্তর বর্ণনা করা হয়। এটি কোহলবার্গের মূল ছয়টি ধাপের বিকল্প নয়; বরং শিশুদের বাস্তব ভাগাভাগির আচরণ নিয়ে পৃথক একটি কাঠামো।

  1. আত্মকেন্দ্রিক দাবি: শিশু সব খেলনা নিজের জন্য চাইতে পারে।
  2. আত্মকেন্দ্রিক যুক্তি: নিজের পছন্দ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে দাবি করা।
  3. সমতা: সবাই সমান সংখ্যক খেলনা পাবে—এই ধারণা।
  4. যোগ্যতা: অবদান বা ভালো কাজের ভিত্তিতে ভাগ করা।
  5. প্রয়োজন: কারও অসুস্থতা বা অভাবকে গুরুত্ব দেওয়া।
  6. সমন্বয়: সমতা, যোগ্যতা ও প্রয়োজনের মতো একাধিক মানদণ্ড বিবেচনা করা।

১৩. শিক্ষাক্ষেত্রে কোহলবার্গের তত্ত্বের গুরুত্ব

  • শিক্ষার্থীদের নৈতিক যুক্তি বোঝার সুযোগ তৈরি করে।
  • নৈতিক দ্বিধাভিত্তিক আলোচনা পরিচালনায় সাহায্য করে।
  • সততা, সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা উৎসাহিত করে।
  • শিক্ষার্থীদের অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে শেখায়।
  • নিয়ম মানার পাশাপাশি নিয়মের উদ্দেশ্য বোঝাতে সাহায্য করে।
  • শ্রেণিকক্ষে যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষক প্রশ্ন করতে পারেন: “একজন বন্ধু পরীক্ষায় নকল করলে তাকে সাহায্য করা উচিত, নাকি শিক্ষককে জানানো উচিত?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সততা, বন্ধুত্ব, কর্তব্য ও ন্যায়বিচারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

তবে শিক্ষার্থীর একটি উত্তর দেখেই তাকে স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট নৈতিক ধাপে শ্রেণিবদ্ধ করা উচিত নয়। তার যুক্তি, অভিজ্ঞতা এবং পরিস্থিতিও বিবেচনা করা দরকার।

১৪. WB Primary TET ও CTET-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ MCQ

প্রশ্ন ১: কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

A) জ্যাঁ পিয়াজে

B) লরেন্স কোহলবার্গ

C) লেভ ভাইগটস্কি

D) বি. এফ. স্কিনার

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: B) লরেন্স কোহলবার্গ

প্রশ্ন ২: কোহলবার্গের মূল তত্ত্বে কয়টি স্তর রয়েছে?

A) ২টি

B) ৩টি

C) ৪টি

D) ৬টি

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: B) ৩টি

প্রশ্ন ৩: শাস্তির ভয়ে নিয়ম মেনে চলা কোন ধাপের বৈশিষ্ট্য?

A) প্রথম ধাপ

B) দ্বিতীয় ধাপ

C) তৃতীয় ধাপ

D) চতুর্থ ধাপ

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: A) প্রথম ধাপ—শাস্তি ও আনুগত্যের অভিমুখ

প্রশ্ন ৪: ভালো ছেলে বা ভালো মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কোন ধাপের বৈশিষ্ট্য?

A) প্রথম ধাপ

B) দ্বিতীয় ধাপ

C) তৃতীয় ধাপ

D) পঞ্চম ধাপ

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: C) তৃতীয় ধাপ

প্রশ্ন ৫: আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া কোন ধাপ?

A) দ্বিতীয় ধাপ

B) তৃতীয় ধাপ

C) চতুর্থ ধাপ

D) ষষ্ঠ ধাপ

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: C) চতুর্থ ধাপ

প্রশ্ন ৬: সামাজিক চুক্তি ও ব্যক্তিগত অধিকার কোন ধাপের সঙ্গে সম্পর্কিত?

A) দ্বিতীয় ধাপ

B) তৃতীয় ধাপ

C) চতুর্থ ধাপ

D) পঞ্চম ধাপ

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: D) পঞ্চম ধাপ

প্রশ্ন ৭: সর্বজনীন নৈতিক নীতির অভিমুখ কোন ধাপ?

A) তৃতীয় ধাপ

B) চতুর্থ ধাপ

C) পঞ্চম ধাপ

D) ষষ্ঠ ধাপ

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: D) ষষ্ঠ ধাপ

প্রশ্ন ৮: Heinz Dilemma কোন তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত?

A) পিয়াজের জ্ঞানীয় বিকাশ তত্ত্ব

B) কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব

C) স্কিনারের আচরণবাদ

D) থর্নডাইকের শিখন তত্ত্ব

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: B) কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব

প্রশ্ন ৯: কোহলবার্গের তত্ত্বের সমালোচনায় যত্ন ও মমতার নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কে?

A) ক্যারল গিলিগান

B) জ্যাঁ পিয়াজে

C) উইলিয়াম ড্যামন

D) জন ডিউই

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: A) ক্যারল গিলিগান

প্রশ্ন ১০: কোহলবার্গের তত্ত্বে কোন বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়?

A) কেবল মুখস্থ করার ক্ষমতা

B) শারীরিক বিকাশ

C) নৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি

D) কেবল পুরস্কার প্রদান

সঠিক উত্তর দেখুন

উত্তর: C) নৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি

১৫. পরীক্ষার আগে এক মিনিটে রিভিশন

প্রবক্তা: লরেন্স কোহলবার্গ

প্রভাব: জ্যাঁ পিয়াজের কাজ

মোট স্তর: ৩টি

মোট ধাপ: ৬টি

প্রথম স্তর: শাস্তি ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

দ্বিতীয় স্তর: সামাজিক স্বীকৃতি ও আইন

তৃতীয় স্তর: সামাজিক চুক্তি ও সর্বজনীন নৈতিক নীতি

বিখ্যাত দ্বিধা: Heinz Dilemma

গুরুত্বপূর্ণ সমালোচক: ক্যারল গিলিগান

মনে রাখার সূত্র: শাস্তি → স্বার্থ → স্বীকৃতি → আইন → সামাজিক চুক্তি → সর্বজনীন নীতি।

উপসংহার

লরেন্স কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব মানুষের নৈতিক যুক্তি কীভাবে শাস্তির ভয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে সামাজিক নিয়ম, অধিকার এবং সর্বজনীন নৈতিক নীতির দিকে বিকশিত হতে পারে, তা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। শিক্ষামনোবিজ্ঞান, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং TET পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই তত্ত্ব বিশেষভাবে উপযোগী।

তবে নৈতিক যুক্তি ও বাস্তব আচরণ সব সময় এক নয় এবং ব্যক্তির সংস্কৃতি ও পরিস্থিতিও নৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তত্ত্বটি বোঝার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতাগুলিও জানা জরুরি।

পাঠকদের জন্য: এই আর্টিকেলটি WB Primary TET, CTET এবং Child Development and Pedagogy প্রস্তুতির জন্য সংরক্ষণ করুন। আরও শিক্ষামূলক নোট ও MCQ অনুশীলনের জন্য ওয়েবসাইটের অন্যান্য বিষয়গুলিও পড়ুন।

বিষয়: শিক্ষামনোবিজ্ঞান | নৈতিক বিকাশ | TET প্রস্তুতি

Keywords: Kohlberg Theory in Bengali, Kohlberg's Stages of Moral Development, নৈতিক বিকাশ তত্ত্ব, WB Primary TET CDP, Heinz Dilemma, Kohlberg 6 Stages

Comments

Popular posts

Login to the Banglar shiksha sms portal (for School) for the first time

Learning Perspective of Cognitive Domain

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের Service Continuation ও Pay Protection

Utsashree portal online general transfer

Student ID card on Banglar Shiksha portal

Utsashree portal for Online Teacher Transfer

Class routine for primary school in West Bengal

Teacher Profile update in Banglar Shiksha Portal

পিঁয়াজের জ্ঞানীয় বিকাশ তত্ত্ব: ৪টি পর্যায় ও উদাহরণ | WBTET

Activity Task on Banglar Shiksha Portal